মোবাইল প্রেম-সর্বনাশ
1
এত দূর এসেছো , বিশ্বাস করে তোমার সব কিছু আমাকে দিলে আর এটুকু বিশ্বাস করতেই তোমার এত অবিশ্বাস ! কি হবে তোমার ? প্রায় চার মাস ধরে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক অবিশ্বাসী মনে হয়েছে কি বরং আজকের এই স্মরনীয় দিনটাকে আরও স্মরনীয় করে রাখবো যখন মন তোমায় দেখতে চাইবে তখন দেখবো।
কুহিনা ভাবল তাইতো যাকে বিশ্বাস করে এতদুর পর্যন্ত , সব দিলাম উজার করে সতীত্ব পর্যন্ত বিলালাম যার কাছে তার এটুকু আবদার রাখিলে, কি আর হবে!
শুরু হল বিভিন্ন ভাবে উলঙ্গ সট দেওয়া নেওয়া মোবাইল ক্যামারাতে ।
জগলু ঠান্ডা প্রকৃতির একজন বেকার, তার কাজ বিভিন্ন মোবাইল ফ্লেক্সি লোডের দোকানদারদের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখা এবং মেডিক্যাল ষ্টোরের দোকানে বসা কারন দুই খানেই তার দরকার। সময় কাটানো মোবাইলে আলাপ, বিভিন্ন মেয়েকে প্রেম নিবেদন করা।
কুহিনা বিবাহিত। নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের কৃষক স্বামীর সুন্দরী বধু । আনেক স্বপ্নই তার অপূর্ন স্বামী মেটাতে পারেনি, নানা সময়ে তার ক্ষোবের শেষ নেই। নিজে কর্মজীবি মহিলার খাতায় নাম লিখালো এক এন.জি.ও তে পারটাইম চাকুরি করে অফিসের কাজে তাকে সদরে হেড অফিসে মাঝে মাঝে যেতে হয়।
হঠাৎ অপরিচিত নাম্বারের কল রিসিভ করা মাত্র বেশ সালাম সহ কারে কথা বলা শুরু
কুহিনা-কে আপনি?
অপরিচিত-আমি আপনাকে চিনি আমাকে আপনি চেনেন না।
কুহিনা- কল করছেন কেন?
অপরিচিত-আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা হল তাই কল দিলাম কেন? আপনার সাথে কথা বলা কারও কি নিষেধ ?
কুহিনা- না, তা না ।আমি একটু ব্যস্ত ।মিটিং এ আছি।
অপরিচিত- ঠিক আছে, আমাকে একটু মনে রাখবেন ।আপনার সাথে পরে কথা বলবো, আল্লাহ হাফেজ।
জগলু সমাজের মাতব্বরদের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরি করার জন্য
ক্লান্তির সীমা শেষ নাই স্বেচ্ছা শ্রমে সে একটু এগিয়ে কুহিনা আর জগলু একই গ্রামের কিন্তু ভিন্ন পাড়ার।সে মোবাইলে নিজের পরিচয় এখন দেয়নি। তবে তার সামনে আরও একটু ভদ্রচিত ব্যবহার করতে চায়।
একদিন কুহিনার পাশের বাড়ির এক জনের অপমৃত্যু হলে জগলু সে কি মায়া কান্না মেয়েরাতো হতবাক বিনাকি করে মেয়েদের মত কাঁদল। ছেলেটা কি ভাল!
একটু আড়ালে এসে জগলু ভাবল যাক আজ একটা সফল অভিনয় করলাম। এর একটা ভাল ফলাফল পাবো।হ্যা হ্যা হ্যা।
2
-তুই আমার সোনার ডিম পারা কৈতরী রে, তুই দিবি আমি যা চাইবো তাই । অবশ্য আমি এতটা হারামী না, তোর সামর্থ্যের বাহিরে তো কিছু চাইবো না । তোর স্বামী বিদেশ থেকে ডলার পাঠায় ওখান থেকে মাত্র ৫০০টাকা ফ্লেক্সি লোড দিবি নিয়মিত, মাঝে মাঝে ক্যাশ। নতুন পাখী ধরেছি তারে খাঁচায় বন্দি করতে, কথা বলতে হবে মিষ্টি সুরে এবং অন্যান্য খরচ আছে।
-তুই এতটা প্রতারক। তুই আমারে আর কত জ্বালাবি?
-আমি প্রতারক হলে তুই কি ? তুই তোর প্রবাসী স্বামী যে তোর জন্য, তোর সন্তানদের জন্য, তোর পরিবারের জন্য কত কষ্ট করছে বিদেশের মাটিতে আর তুই ওদের সবার সাথে প্রতারনা করেছিস। তুই আমার চেয়ে বড় প্রতারক।আমি অনেককে প্রপোজ করেছি সবায়তো আমাকে চ্যান্স দাইনি।
-তুই আমাকে মুক্তিদে !
-এত অধর্য্য হচ্ছো কেন, সোনা ? তোমার সিডি আমার কাছে নিরাপদেই আছে। হ্যা হ্যা হ্যা।
কিছু ক্ষণের মধ্যে ৩০০টাকা লোড আসলো জগলু-র মোবাইলে। জগলু মনে মনে একটু অখুশি হলেও খুশি। ৩০০টাকাও কম না আর কমতো দিচ্ছে না ।
এখন সন্ধ্যা বেলা নিশ্চয় কুহিনার স্বামী পাশের বাজারে গেছে সারাদিনের ক্লান্তি দুর করতে আর ওর ছোট ছেলেটা পড়াশুনা করতেছে মেয়েটাতো বাড়িতে থকেনা এখনই সুযোগ কথা বলার।
অপরিচিত- সালাম সহকারে , ভাল আছেন?
কুহিনা -হ্যা, আপনি কে?
অপরিচিত -কেন ভুলে গেলেন? আপনার কি আরও মোবাইল বন্ধু আছে যাদের ভীড়ে আমাকে মনেকরতে পারছেন না!আমি সেই যে আপনার মিটিং এ র সময় কল করেছিলাম।
কুহিনা -ও হ্যা, মনে পড়েছে। তা বলুন তো আপনি কে, কি কারনে আমাকে কল করছেন ?
অপরিচিত - আমাকে আপনি চিনবেন না। আমি আপনার ভাল বন্ধু হতে চাই।
বলুন আপনি কি আমার উপরে বিরক্ত বোধ করছেন ? তাহলে কল দিবোনা!
কুহিনা - না তা না আমি অবশ্য এখন একটু ফ্রি তেমন কাজ নাই।
অপরিচিত - ও আচ্ছা, আপনি কখন ফ্রি থাকেন?
কুহিনা - থাকি যখন থাকার সময় হয় তখনই থাকি।
অপরিচিত - আপনি এতো সুন্দরি কেন? আপনাকে আমার খুব সুন্দরি লাগে।
কুহিনা -হ্যা হ্যা হ্যা,, সুন্দরি লাগে ?
অপরিচিত -জী।
কুহিনা - আপনার নামটা বলেনতো, কোথায় থাকেন?আপনি করেনই বা কি?
অপরিচিত -ধরুন একটা নাম ,নাম বললেই তো অনেক কিছু শেষ। আমি রাবের চাকুরী করি ।আমার বাড়ি আপনার পাশের এলাকাতে।
কুহিনা - আপনি রাব ? [একটু বাড়তি মনোযোগ] ঠিক আছে আমাকে যখন আপনার এত ভাললাগে আমার সাথে দেখা করুন ।
অপরিচিত - আমাকে ভয় লাগছে আপনার সাথে দেখা করলে আপনি কি যে ভাবেন আসলে লজ্জা লাগছে যদি আমাকে আপনি ভুল বোঝেন।
কুহিনা - ভূল বোঝার কি আছে ? পরিচয় দেন নাম বলেন । রাব কে দেখে সবায় ভয় করে আর আপনি আমাকে ভয় পাচ্ছেন ?
অপরিচিত - রান্না করছেন বুঝি? ঠিক আছে আবার আপনার সাথে কথা বলার আশায় থাকলাম। ভাল থাকেন।
ও হ্যা আপনার মন চাইলে মানে অবসরে আমাকে স্মরণ করবেন আমি আপনার মিস কলের প্রতীক্ষায় থাকলাম। আল্লাহ হাফেজ।
জগলু কল কেটে দিল কারন তার ওজন বাড়ানোর জন্য।
3
জগলুর আসল নাম হল জামাল। এস. এস. সি পাশ সে করতে পারেনি তিনবার পরীক্ষা দেওয়ার পরেও। বাবা তৃতীয় শ্রেনীর চাকুরি করতো এখন অবসরে আছে। ছোট থেকে এই রকম বহু কাহিনীর জন্ম দেওয়ার কারনে তাকে জগলু নামে ডাকা হয়।
আর নারী ঘটিত অপরাধ সাধারণত গোপন থাকে যতক্ষন তৃতীয় পক্ষ জানতে পারে না। আর তৃতীয় পক্ষ জানলেও হাতে নাতে ধরতে না পারলে ব্যাপারটা বলতে গেলে তৃতীয় পক্ষ নিজেই অপরাধী হিসাবে গন্য হয়।
মোবাইল আলাপ সময়ে অসময়ে চলছে । দুজনেই প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে যেন নতুন জোয়ারে ভাসা দুটি তরী ।
কুহিনা- এই তুমি আসোনা কেন? অফিসে আসো, দেখা করো আমার সাথে। এ ভাবে আড়ালে আড়ালে থাকছো কেন?
জগলু - তোমার মত সুন্দরী সামনে গেলে আমার বুক কাঁপে। আর আমি মিথ্যা কথা বলছি তুমি বিশ্বাস কর তোমার ভালবাসা পাবার জন্য আমি মিথ্যা কথা বলছি। আসলে আমি রাব না আমি ছোট খাট ব্যবসা করি {এটাও মিথ্যা}
। তোমাকে খুব ভাল লেগেছিল, যেদিন তোমার বাড়ির পাশে একটা গাছ দেখতে গিয়ে ছিলাম । সে দিন থেকে আমি তোমার পাগল। কিছু দিন আগে তোমার বাড়ির পাশে এক জন যে আমার পরিচিত তার মৃত্যুতে খুব কেঁদে ছিলাম। আজ মোবাইলের কারনে কথা বলতে পারছি । আমি তোমাকে ভালবাসি। ফিরে দিবে না তো!
কুহিনা- ও আচ্ছা চিনতে পেরেছি তবে পুরাপুরি নয় । তুমি আসো তোমাকে দেখি । আগে খাতা কাটি তার পর ফলাফল দিবো ।
জগলু - যদি ফেল পড়ি?
কুহিনা- আরে তুমি তো জান, আগে রুপ বিচার তার পর গুন বিচার। তবে তোমাকে আশা দিতে পাড়ি তোমাকে সহজে ফেল করে দিব না।
জগলু - ঠিক আছে কখন তুমি ফ্রি থাকো তখন যাবো অফিসে।
কুহিনা- আমি বেশি ভাগ সময় ফ্রি থাকি আমার তো বেশি কাজ নাই।
জগলু - ঠিক আছে কাল যাবো দুর থেকে দেখে তোমার পছন্দ হলে আমাকে মোবাইলে ডাকবে, আমি যাবো।
ঠিক আছে কাল আসো বাহিরে যে দোকানটা আছে ওখানে দ্বারাবে আমি দেখে পছন্দ হলে তোমাকে ডাকবো।
পরদিন জগলু যথা স্হানে আসল এবং কল করল, আমি এসেছি।
কুহিনা- ও তুমি ঐটা, যে ফুল সার্ট প্যান্ট পড়ে আছো?
জগলু - হ্যা ।
আসো ভিতরে আসো তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে । বসো ।
জগলু - তোমার জন্য চকলেট এনেছি তুমি বলেছিলে চকলেট তোমার প্রিয়।
কুহিনা- ওরে বাবা তুমি তো দেখছি সব মনে রেখেছো।আর তুমি তো অনেক ছোট! তোমাকে আমি ছোট ভাই মনে করি আর আমাকে তুমি আপা মনে কর।
জগলু - তুমি এসব বলবে তাহলে আসতে বললে কেন? তাহলে তোমাকে না পরিচয় দেওয়া আমার ভাল ছিল। প্রেমের ক্ষেত্রে কোন বয়স নাই। আমরা এলাকার ইতিহাস হবো । শোননি কত ঘটছে বড় মেয়ের সাথে ছোট ছেলের সম্পর্ক।
কুহিনা- হ্যা তা ঠিক ।
অন্যের পিঠা খেতে বড় মিঠা রে ! আর তুমি জান আমাকে কত জন ভালবাসে ! সুন্দরের পুজারী প্রায় সবায়। তা তোমাকে আমি কি ভাবে তৃপ্ত করতে পারি?
জগলু - অনেক ভাবে করতে পারো। প্রতিটা এই রকম প্রেমের সম্পর্কের শেষ দৃশ্যতেই তো শাররীক সম্পর্ক তাই নয় কি!
কুহিনা- হ্যা হ্যা হ্যা ভালই বলেছো।
জগলু একই গ্রামের হওয়ার কারনে এভাবে প্রায় প্রতি দিন অফিসে যাতায়াত করতে লাগল এবং মানসিক ভাবে আঘাত করতে লাগল যেমন, তোমার স্বামী তোমার রুপের মূল্য দিতে জানেনা।কি একটা গেঁয়ো লোকের সাথে ঘর করো। আর তুমি মনে কর তোমার স্বামী শুধু তোমার সাথেই শাররিক সম্পর্ক করেছে ? ভূল, তোমার ধারনা ভূল। জগতের কোন পুরুষই এক নারীতে তৃপ্ত থাকেনি। তাহলে তুমি কেন তৃপ্ত থাকবে ?
কুহিনা- তুমি ঠিক বলেছো রে, তুমি আমার মনের কথা বলেছো সে আমাকে মানসিক শাররীক কোন ভাবেই তৃপ্ত করতে পারে নি। জীবনে আমার কোন শখ মেটাতে পারেনি।
জগলু - হ্যা, আমি তোমার মনের মানুষ বলেই তো তোমার মনের খবর রাখি।তোমার মুখে চোষা চকলেট টা বাহির কর প্লিজ। চকলেট বাহির করা মাত্র জগলু তা নিজের মুখে পুরে দিল। দেখ আমি তোমাকে কত ভালবাসি।
জগলু তার মোবাইলে সময়ে অসময়ে টাকা লোড দিতে লাগল। টাকা পয়সার লোভ দেখতে লাগল , দিয়েছেও [কারন জগলু সুদে আসলে তুলে নিতে জানে তাই সে অসুবিধা মনে করলনা] এবং কুহিনা নিয়েছেও কুহিনার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে খরচের কারনে। তার বিভিন্ন কাজের হুকুম পালন করতে লাগল। কুহিনার দাশে পরিণত হয়ে গেল।মোবাইলে কথা এক পর্যায়ে সেক্স পর্যন্ত গড়াল। শেষ নগ্ন দৃশ্য যা মোবাইলে ধারন করার আগ পর্যন্ত সুবোধ বালকের মত আচারণ করতে লাগল।
চারমাসের মধ্যে তারা এমন নিষিদ্ধ প্রেমে মত্ত হল যে তারা একটা জায়গার সন্ধান করে, যেখানে দুজনে তৃপ্ত হতে পারে। পেয়েও গেল। মিথ্যা অফিসের ট্রেনিং আছে বলে স্বামীর কাছ হতে অনুমতি নিয়ে দুদিন সময় কাটাল, জগলুর মিথ্যা অভিনয়ের কাছে নিজেকে সপে দিল।
জগলু যেখানে এসব নিষিদ্ধ প্রেম লীলা ঘটালো তার বাড়িও একই গ্রামে চাকুরি সুত্রে সে অন্য জেলাতে থাকে।সে ব্যাপারটা মন থেকে সাপোর্ট করতে পারলনা। কারন মহিলার মেয়ে জগলুর চেয়ে জোর চার- পাঁচ বছরের ছোট হবে । সে [চাকুরিজীবী] তার মেয়েকে পছন্দ করত । জগলু গর্বের সহিত চাকুরিজীবীকে দেখায় তাদের সেই নগ্ন দৃশ্য । মনে মনে চাকুরীজিবি তো হতবাক কারন তারা মিথ্যা বলে সেখানে আশ্রয় নেই এবং সে অফিসে চলে গেলে এসব কাজ করে।
জগলু এলাকাতে আসার পর গর্বের সাথে আরো কয়েক জনকে দেখায় তারা সবায় হতবাক এও কি সম্ভব! এবং তাদের মধ্য কেউ কেউ তার শরীরের প্রতি দূর্বল হয়ে তাকে বিভিন্ন ভাবে প্রস্তাব দিতে থাকে।নতুবা রাতে তার বাড়িতে ঢিল পরে এবং নানা ভাবে জ্বালাতন করে । সন্মানের ভয়ে তাদের কেও কুহিনা তৃপ্ত করে । এক কান দুকান করে অনেকে ব্যাপার জানতে পারে।
এখন কুহিনা জগলুর হাতের পুতুল। কুহিনা এখন প্রায় বেশ্যা।
অনার্সে পড়া মেয়েটিকে কি বাঁচাতে পারবে কুহিনা তার নোংরামী থেকে, হয়তো পারবে হয়তোবা পারবেনা !
[ গল্পটি যদি কারও জীবনের সাথে মিলে যায় তাহলে লেখক দায়ী নয় ]
0 comments:
Post a Comment