রিলেশন ব্রেকআপ পরবর্তী সময়ে কি করণীয়?
আমি কোন এক সময় ফোরামের নিয়মিত সদস্য ছিলাম। অনেকেই হয়ত আমার লেখার ভঙ্গি দেখে আমাকে চিনে থাকবেন, মডুরা তো আশা রাখি অবশ্যই চিনবেন। যারা চিনবেন তাদের কাছে একটা অনুরোধ যেহেতু আমি আমার পরিচয় লুকানোর জন্য এই নতুন আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছি তারা অনুগ্রহ করে আমার পরিচয়টা প্রকাশ না করলে কৃতজ্ঞ থাকব। যাই হোক যে ঘটনার জন্য এই নতুন আইডি নেয়া এবং টপিকের শিরোনামটাও একটু অদ্ভুদ। আমার জানামতে প্রজন্মতে এরকম কোন পোস্ট এখনও হয়নি।
আত্নীয়>ফোন এর সূত্র ধরে আজ থেকে ৫৭ দিন আগে একটা মেয়ের সাথে আমার রিলেশন হয়। রিলেশনের ঠিক ৩১ তম দিনে ওর সাথে আমার দেখাও হয়েছে। তো সবকিছুই ঠিকঠাক ভাবে চলছিল। ওর সাথে রিলেশনের পর ও আমার কাছে কিছুই গোপন করেনি। সবকিছুই বলেছে। বলেছে যে আগে একটা ছেলে ওকে পছন্দ করত, তার সাথে মাঝে মাঝে কথা বলত ইত্যাদি ইত্যাদি। সাথে আরও একটা ঘটনা আছে যে ওর এক ফুফাতো ভাইয়ের সাথে ওর খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সেই ভাই ওকে প্রপোজ করে বসে। এটা আজ থেকে আরও ৩ বছর আগের ঘটনা। তো ও তাকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। দুই পরিবারের মাঝে এই নিয়ে বেশ ঝামেলাও গেছে। এখন দুই পরিবারের মাঝে যোগাযোগ আছে ঠিকই কিন্তু সেই ছেলে ওদের বাসায় আসে না, আর ও ওই বাসায় যায় না। সেই ছেলের অবস্থা এমন যে আমার ধারণা সে এখন মানসিক রোগে আক্রান্ত। ওই ছেলের পরিবার থেকে ওকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। ছেলেটি ঢাকায় থাকে। যখন বাড়ীতে যায় তখন বাড়ীতে খুব একটা থাকে না। বাইরে বাইরে ঘুরে। ছেলেটি নাকি ওকে বলেছে "আমি তোকে একদিনের জন্য হলেও বউ বানাব"। তো এইসব ঝামেলা নিয়ে মোটামুটি সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবে চলছিল।
গত ১৫ তারিখে সেই ছেলে(ফুফাতো ভাই) নাকি ওর কলেজে গিয়ে ওর সব বান্ধবীর সামনে নাকি ওকে বলেছে "তোর জন্য আমার জীবনটা ধ্বংস হয়ে গেল"। এই কথা শোনার পর ও খুব খারাপ লেগেছি। বাসায় আসার পরও মন ভাল হয়নি। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি এর আগে ওই ছেলের কথা উঠলেই ও ওকে যা তা বলত। কুত্তা ছাড়া একটা কথাও বলত না। রাতে আমার সাথে কথা বলার সময় বিষয়টি আমার কাছে বললে আমি ওকে সান্তনা দিলাম। তখন আমার কাছে সবকিছু বেশ স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। এরপর ১৬ তারিখে লঞ্চে চড়ে বাড়ীতে যাওয়ার সময় ছাদে উঠে ওর সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললাম। ওর মনটা তখনও বেশ খারাপ ছিল। কিন্তু আমি যে ওর সাথে একটু বেশী পরিমাণ কথা বলব আমার সে উপায় ছিল না। এর মাঝে ও একদিন বলল ওর বান্ধবী(যার সাথে একবার আমি কথা বলেছি) নাকি নতুন একটা ওয়ারিদ সিম কিনেছে, এখন সেটাতে কিভাবে এফএনএফ করবে তা জানতে চাইল। আমি বললাম। যেদিন আমি বাড়ী গেলাম(১৬ তারিখ) সেদিন ও ওর সেই বান্ধবীকে রাত ১২.৩৬ এর সময় এবং রাত ০২.৩৭ এর সময় ফোন করেছে। ১৬ তারিখে বিকাল ৩ টার সময় ও আমার কাছে ফোন করল। এরপর ৪ টার সময় আবার কথা বলার সময় ও একটা কথা বলল যে ও নাকি ওর ভাই, বাবা, মা এর সাথে প্রতারণা করেছে। প্রতারণার বিষয়টি হচ্ছে আমাকে নিয়ে। এরপর ওর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর কথা হয়নি। আর তখনও ওর মন ভাল হয়নি সেই ১৫ তারিখের পর। তো তখন থেকেই আমার মনটা বেশ খারাপ ছিল। ইচ্ছে ছিল রাতে কথা বলব এই নিয়ে বিস্তারিত। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি আমি একটু অস্থির টাইপ ছেলে। কোনবিষয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই। একটু অপেক্ষা করব সেটা আমার দ্বারা হয় না। রাতে আর কথা বলা হল না। ও বলল ওর প্রবলেম আছে তাই কথা বলতে পারবে না। আমি কিছুক্ষণ পরে কল দিয়ে দেখি যে নাম্বার ওয়েটিং। তো মেজাজ টা বেশ খারাপ হল। যাই হোক রাত ১২ টার অর্থাৎ ১৭ তারিখে যখন দেখলাম ও ওর বান্ধবীর সাথে ১৬ তারিখে রাত ১২.৩৬ এবং ০২.৩৭ এর সময় কথা বলেছে এবং তাকে এস.এম.এস করেছে, এই বিষয়টা দেখে আমার মনটা আরও বেশী খারাপ হল। সেই সাথে মেজাজ গরমও হল। কারণ আমি ওকে বলেছি তুমি যদি মাঝরাতে ফোন করে আমার ঘুম ভাঙ্গাও তবে সেটা আমার অনেক ভাল লাগবে। কিন্তু ও এই কাজটা ২-৩ বারের বেশী আমার সাথে করেনি। বিষয়টা দেখে আমার মন খারাপ হল এই কারণে যে ও ওর বান্ধবীর সাথে ভোররাতে কথা বলতে পারে দুই বার আর আমাকে একবারও ফোন করতে পারে না। একটা এস.এম.এস ও না। তো আমার সন্দেহ হওয়াতে পরেরদিন(ঈদের দিন ১৭ তারিখ) আমি সেই নম্বরে ফোন করলাম। ফোন করে নিশ্চিত হলাম যে এটা ওর বান্ধবীর নম্বর। ওর বান্ধবীর ভাই ফোন রিসিভ করেছিল। কিছুক্ষণ পরে ও আমাকে ফোন করার পর ওকে বিষয়টা জিজ্ঞেস করলাম যে ফোন নম্বরটা কার। ও বলল ওর বান্ধবীর এবং তার ভাইয়ের।
এরপর ঈদের দিন আর সারাদিন কথা হয়নি। বেশ খারাপ সময় গেছে তখন। রাত ৮.৪৫ এর সময় টের পেলাম ও ফোন অন করেছে। এর কিছুক্ষণ পরে ও আমাকে ফোন করল। তো এইকথা সেইকথা, কার ঈদ কেমন কাটল ইত্যাদি ইত্যাদি। এরপর আমি সেই প্রতারণার বিষয়টির কথা বলতে চাইলাম। ও বলল ওর মন এর অবস্থা খুব খারাপ আছে এবং এই মুহুর্তে ও কোন সিরিয়াস কথা বলতে চায়না, কারণ কোন কথা উত্তরে কোন উল্টাপাল্টা কথা বলে ফেলবে এবং পরে খারাপ লাগবে। যাই হোক তারপরও ও বলার পর আমি বললাম "তুমি কি তোমার ভাই,বাবা এবং মায়ের সাথে প্রতারণা করে যেতে চাও নাকি সংশোধিত হয়ে(রিলেশন শেষ করে) ফিরে যেতে চাও। উত্তরে ও বলল আমি এতদিন তোমার সাথে তো অনেক কথা বলেছি। তুমি এর থেকেই উত্তরটা খুজে নিও। এরপর আরও কথা বলার মত আমি সকালে যে ওর বান্ধবীর নম্বরে ফোন করেছিলাম সেটা বললাম। ব্যস, রেগে আগুন হয়ে গেল। বলল, আমাকে যেহেতু সন্দেহ কর তো আমার সাথে কথা বলার দরকার কি। এই বলে লাইন কেটে দিল। এরপর আমি ফোন করছি আর ও লাইন কেটে দিচ্ছে। একপর্যায়ে রিসিভ করে বলল "শোন তোমার সাথে আমার কথা বলতে ইচ্ছে করছে না, আমার মাথা এমনিতেই গরম ছিল আর তোমার সাথে কথা বলে আরও গরম হয়ে গেছে।" এই বলে লাইন কেটে দিল। এরপর আমি সর্যি এবং গতকাল আমার মনের অবস্থা কি ছিল ওর সাথে কথা বলতে না পেরে তা লিখে এস.এম.এস করলাম। এরপর বাসায় এসে আবার এস.এম.এস করলাম। কিন্তু ওর কোন রেসপন্স নাই। রাত ১২ টার পর ফোন করে ফোন বিজি পেলাম। আগে কল ওয়েটিং সার্ভিস অ্যাকটিভ করা ছিল, কিন্তু এখন বন্ধ করে রেখেছে। ওর সেই বান্ধবীর সাথে প্রায় ২১ মিনিট কথা বলল। রাত ১২.৪৫ এর সময় আমি আবার একটা এস.এম.এস করলাম। এরপর সেদিন রাতে সেই নম্বরে ভোর ৪ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত ১ ঘন্টারও বেশী কথা বলেছে। সকালে এটা যখন আমি দেখলাম তখন আমার মনের অবস্থা যে কি ছিল তা লিখে বোঝানো যাবে না। এরপর সারাদিন ফোন অফ ছিল। আবার অন করেছে বিকাল ৪ টার দিকে। আমি ফোন করলে লাইন কেটে দিল। এর আগে সেই রাতে ও রাগ করার পর যতবার ফোন করেছি ততবার লাইন কেটে দিয়েছে। আমি তখন কি কি লিখে যেন এস.এম.এস করলাম। এরপর সারারাতে আর ফোন অন হয়নি। ফোন অন করেছিল ১৯ তারিখ সকাল ৬.৫০ এর সময়। অন করে আবার কিছুক্ষণ পরে অফ করে ফেলেছে।
এরপর আর কোন খবর নেই ওর, মানে ফোন বন্ধ। আমি এরপর ওর সাথে যোগাযোগ করার জন্য ওর সেই বান্ধবীর নম্বরে ফোন করাতে ওর ভাই রিসিভ করেছিল। আমি বলেছিলাম ওর বান্ধবীর সাথে কথা বলব। ওর বান্ধবীর ভাই সবকিছু বিস্তারিত জানতে চাইল। স্বাভাবিক ভাবেই আমার তার কাছে কোন কিচু না বলার কথা। যাই হোক তারপরও সে আমাকে বলল সে ওর সাথে কথা বলিয়ে দিবে। কিন্তু আমি আর সেই নম্বর কখনও অন পাইনি। এরপর কোন উপায় না পেয়ে আজ আমার সেই আত্নীয় যার সূত্রে ওর সাথে পরিচয় তার সাথে যোগাযোগ করলাম অন্য একটা মাধ্যমে। যে ছেলেটা ওকে পছন্দ করত সেই সূত্রে। ও অবশ্য ধরতে পারেনি কিছুই যে আমি ফোন করিয়েছি এবং ওর বর্তমান অবস্থা জানতে চাচ্ছি। যাই হোক তার মাধ্যমে জানলাম যে আজ(২১ তারিখ) সন্ধার পরে ও বাসায় আসবে। এরপর রাত ৯ টার সময় এর ফোন অন হওয়ার সাথে আমি ফোন করি। অনেকক্ষণ পর রিসিভ করলে কিছুক্ষণ হ্যালো হ্যালো বলার পর ও যখন কথা বলে তখন আমি প্রথমে জিজ্ঞেস করলাম "তুমি কি আমার সাথে কথা বলতে চাও না"। ও বলল " আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই না সেটা তো আমি বলিনি"। এরপর ও জিজ্ঞেস করল আমি কি ওর সেই আত্নীয় কে দিয়ে কি ওর বাবার কাছে ফোন করিয়েছি কিনা। আমি তখন সবকিছু খুলে বললাম। এরপর আমি বলেছি "গত ৩ টা দিন যে আমার কাছে কেমন গেছে তা আমি ছাড়া আর কেউ জানে না"। ও বলল "আমি আগামী ১ সপ্তাহের মাঝে বিয়ে করছি। আর আমি চাইনা আমার কারণে তোমার জীবনটা ধ্বংস হয়ে যাক"। এরমাঝে লাইন কেটে গেল। একফাকে ও বলল ও খুব টায়ার্ড রাতে কথা বলতে পারবে না। এরপর প্রায় আধা ঘন্টা পরে আমি আবার ফোন করলাম। রিসিভ করে ক্লান্ত গলায় বলল যে টায়ার্ড কথা বলতে পারবে না। কি আর করা। এরপর দেখি ওর ফোনে ব্যালেন্স নেই। তাই আমি টাকা পাঠালাম এই ভেবে যদি রাতে ওর কথা বলতে ইচ্ছে করে তবে হয়ত আমার কাছে ফোন বা এস.এম.এস করবে। এরপর আমি রাত ১১ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে উঠলাম ১.১৫ এর দিকে। ফোন করে দেখি ওয়েটিং। একাউন্ট চেক করে দেখলাম রাত ১২ টার দিকে ওর সেই কথিত বান্ধবীর নম্বরে এবং অন্য একটা নম্বরে এস.এম.এস করেছিল। সেই নম্বরটাতে ট্রাই করলাম সেটাও ওয়েটিং। তখন মনের অবস্থা কি সেটা আশা রাখি আপনারা সহজেই অনুমান করতে পারেন।
এরপর আরও বেশ কয়েকবার ফোন করার পর আমি এস.এম.এস পাঠালাম" আমার সাথে যাতে একটু কথা বলে তারপর যেন কথা বলে"। কিন্তু ওর কোন সাড়াশব্দ নেই। এরপর ওর সেই বান্ধবীকেও রিকোয়েস্ট করলাম যেন আমার সাথে সে যেন একটু কথা বলে। কিন্তু অবস্থা একই। তখন ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঘুম কি আর আসে। শেষে জেদ চেপে গেল আমি যদি কথা বলতে না পারি তবে তোদেরও কথা বলতে দিব না। ব্যাস, প্রায় ১ ঘন্টা লাগাতার কল করলাম দুইজনের নম্বরে। শেষে আরও খারাপ লাগায় আর কল করিনি। এরপর জেদের বশে ওর ফোন থেকে সব টাকা মাইনাস করে দিলাম। এরপর কম্পিউটারের সামনে বসে ভাবলাম দেখি এই সংক্রান্ত নেটে কিছু লেখা পড়া যায় কিনা। এখন ভোর ৫.১৫ এর মত। ৪.৪৫ এর দিকে বোধহয় তারা কথা বলা বন্ধ করেছে। বোধহয় দুইজনেরই ব্যালেন্স শেষ। ওর নম্বরে ফোন করলাম লজ্জাহীনের মত, কিন্তু ও কেটে দিল।
এখন আসলে আমি যে কি করব তাই ভাবতে পারছি না।
আমি সিদ্ধান্তহীনতায় যে কারণে ভূগছি বা যে কারণে আমার মনে সন্দেহ:
১. বান্ধবীর সাথে কেউ এতক্ষণ কথা বলে নাকি? তবে আবার এটা ভাবছি কলেজ যেহেতু বন্ধ তাই ওর বান্ধবীর সাথে ওর বর্তমান অবস্থা নিয়েই কথা বলছে কিনা। কিন্তু কেউ তো আমার ফোন রিসিভ করে না।
২. ও অন্তত আমার ফোনটা একবার রিসিভ করতে পারত।
৩. আরও একটা পয়েন্ট আছে, সেটা সকালে শিওর হয়ে তারপর বলব
কিছু বিষয়:
১. আমরা অল্প সময়েই অনেক কাছে চলে গিয়েছিলাম।
২. আমি বোধহয় ওকে যেভাবে ভালবেসেছি এবং এখনও যেভাবে ভালবাসি তা বোধহয় কোনদিন কাউকে বাসিনি। আমি কখনও কারও জন্য কাদিনি। কিন্তু ওর জন্য আমি কেদেছি। এমনকি ঈদের দিন সকালে এবং গতকাল(২০ তারিখ) সন্ধায়
আরও বেশ কিছু বিষয় আছে যেগুলো এখন আর লিখতে ইচ্ছে করছে না।
তো প্রজন্মের সম্মানিত সদস্যদের কাছে আমার লেখার উদ্দেশ্য এই যে আমি এখন কি করতে পারি বা আমার এখন কি করা উচিত। অনুগ্রহ করে কেউ লিখবেন না মেয়ে
0 comments:
Post a Comment